বাক্যের মেীলিক উপাদান শব্দ হলে ও ভাষার মূল উপকরণ বাক্য। এই বাক্য সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে না পারলে বাক্য তার ভাষাগত যোগ্যতা হারায়। যার ফলস্বরুপ মনের ভাব সুস্পষ্টরুপে প্রকাশ করা সম্ভব হয় না বা আমরা যথাযথভাবে বুঝতে পারি না।ত্রুটিমুক্ত বাক্যই পারে সঠিকভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে। ভাষাগত যোগ্যতার বিচারে সঠিক বাক্য বলা বা প্রয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাক্য: যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন: সজল ও লতা বই পড়ে।
সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ তিনটি। যথা: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া। বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলো কর্তা। যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম। আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনো কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়, তাকে বলে ক্রিয়া। যেমন: সজল ও লতা বই পড়ে। এখানে 'সজল ও লতা' হলো কর্তা, 'বই' হলো কর্ম এবং 'পড়ে' হলো ক্রিয়া।
বাক্যের ভিত্তি: ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন:
ক) আকাঙ্খা
২) আসত্তি
৩) যোগ্যতা
গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার।
যথা: সরল বাক্য, জটিল বাক্য ও যৌগিক বাক্য।
উদাহরণ: আমি পড়াশোনা শেষ করে খেলতে যাব। যখন আমার পড়াশোনা শেষ হবে, তখন আমি খেলতে যাব। আমি পড়াশোনা শেষ করব; তারপর খেলতে যাব।
প্রথম বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া আছে। এটি সরল বাক্য। দ্বিতীয় বাক্যের দুটি অংশ 'যখন' ও 'তখন' যোজক দ্বারা যুক্ত হয়েছে। এটি জটিল বাক্য। তৃতীয় বাক্যে 'করব' ও 'যাব' দুটি সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে। এটি যৌগিক বাক্য।
অর্থানুসারে বাক্যর প্রকারভেদঃ
অর্থানুসারে বাক্য সাত প্রকার। যথা:
ক. বিবৃতিমূলক বা বর্ণনামূলক বা নির্দেশমূলক বাক্য। যেমন:
এখান থেকে যাও (নির্দেশাত্মক)।
আমি ভাত খাই (বিবৃতিমূলক)।
সে ঢাকা যাবে (হ্যাঁ-বাচক)।
আমি বলতে চাই না (না-বাচক)।
আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
তারা তোমাদের ভুলেনি।
খ. প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন:
তোমার নাম কী?
কী পড়ছ?
যাবে নাকি? কোথায় যাচ্ছ?
সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য। যেমন:
বল বীর বল উন্নত মম শির।
উঠে দাঁড়াও।
আমাকে একটি কলম দাও।
ঘ. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য। যেমন:
মহারাজের জয় হোক।
তোমার মঙ্গল হোক।
ঈশ্বর তোমাকে জয়ী করুন।
দীর্ঘজীবী হও।
পরীক্ষায় সফল হও।
তার মঙ্গল হোক।
ঙ. কার্যকারণাত্মক বাক্য। যেমন: কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলে না।
চ. সংশয়সূচক বাক্য। যেমন: বোধ হয়, ছেলেটা চাকুরি পেয়ে যাবে।
ছ. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য।
যেমন: হে সিন্ধু!
বন্ধু মোর-মজিনু তব রূপে!
হুররে! আমরা জিতেছি
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আকাঙ্খা: বাক্যের অর্থ পরিস্কার ভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাই আকাঙ্খা। যেমন:
অপূর্ণাঙ্গ বাক্য : রহিম খুব। (আকাঙ্খার নিবৃত্তি হয়নি, আরও কিছু শোনার ইচ্ছা হয়)
পূর্ণাঙ্গ বাক্য : রহিম খুব ভাল ছেলে। (আকাঙ্খার নিবৃত্তি হয়েছে)
আসত্তি: মনোভাব প্রকামের জন্য বাক্যে শব্দগুলোকে এমন ভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশে বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যে অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
আসত্তিহীন লেখা : খুব ছেলে রহিম ভাল। (মনোভাব প্রকাশিত হয়নি)
আসত্তি সম্পন্ন বাক্যঃ রহিম খুব ভাল ছেলে। (মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশিত হয়েছে)
যোগ্যতা: বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন: যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য: 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়'। কারণ বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় আছে।
যোগ্যতাহীন বাক্য: 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে'। বাক্যটি ভাবপ্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।
প্রতিটি বাক্যে প্রধানত দুটি অংশ থাকে। যথা:
ক. উদ্দেশ্য
খ. বিধেয়।
উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
প্রতিটি বাক্যে প্রধানত দুটি অংশ থাকে। যথা:
ক. উদ্দেশ্য
খ. বিধেয়।
বিধেয়: উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। যেমন: খোকা এখন বই পড়ছে। সুমন বল খেলে। (এখানে 'সুমন' হলো উদ্দেশ্য এবং 'বল খেলে' হলো বিধেয়।)
বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক। যেমন: সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে। এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।
সাধারণত উদ্দেশ্যের পূর্বে উদ্দেশ্যের প্রসারক এবং বিধেয়ের পূর্বে বিধেয়ের প্রসারক বসে। তবে বিধেয়ের স্থান ও কাল সংক্রান্ত প্রসারক উদ্দেশ্যের পূর্বেও বসতে পারে। যেমন: ১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে বাঙালি জাতির অহংকার রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এ বাক্যে উদ্দেশ্য হলো 'রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার', উদ্দেশ্যের প্রসারক হলো 'বাঙালি জাতির অহংকার'। বিধেয় ক্রিয়া হলো 'উৎসর্গ করেছিলেন', বিধেয়ের পূরক হলো 'জীবন'। অন্যদিকে '১৯৫২ সালে', 'ঢাকার রাজপথে' এবং 'মাতৃভাষার জন্য'- এ তিনটি অংশ হলো বিধেয়ের প্রসারক।
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
১. সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে। যেমন: আমার মা চাকরি করেন।
২. অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে। যেমন: তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়। যেমন:
তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। (অতীত)
তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন। (ভবিষ্যৎ)
ইতিবাচক বাক্য হল এমন কোনো বিবৃতি যা নেতিবাচকের পরিবর্তে ইতিবাচক, যেখানে ক্রিয়াটি বিষয়গুলিকে সক্রিয়ভাবে কিছু করছে বলে প্রকাশ করে।
যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো কিছুর অস্বীকৃতি, অভাব, বা না-বোধক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে নেতিবাচক বা না-বোধক বাক্য বলে।
সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন:
আয়নাল (উদ্দেশ্য) এখন বই লিখছে (বিধেয়)।
পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
বিদ্বান লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
ধনের ধর্মই অসাম্য।
আমি পড়াশোনা শেষ করে খেলতে যাব।
পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
বৃষ্টি হচ্ছে। তোমরা বাড়ি যাও।
খোকা আজ সকালে স্কুলে গিয়েছে।
স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন।
বিশ্ববিখ্যাত মহাকবিরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনী দ্বারা অমরতার সংগীত রচনা করেন
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
সরল বাক্যে অনেক সময় ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। যেমন: আমরা তিন ভাইবোন।
বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন: তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।
বাক্যের শুরুতে অসমাপিকা ক্রিয়া এবং পরে সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে সরল বাক্য গঠিত হয়। যেমন: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। প্রদত্ত উদাহরণটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া 'করলে' এর মাধ্যমে বাক্যের কর্তা গঠিত হয়েছে এবং এতে একটি সমাপিকা ক্রিয়া 'করে' বিদ্যমান। সুতরাং, এটি সরল বাক্য।
জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সাথে এক বা একাধিক আশ্রিতবাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বলে। যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন: যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
জটিল বাক্য চেনার শর্ত ২টি। যথা:
ক. দুটি খণ্ডবাক্য একটি শর্ত দ্বারা যুক্ত থাকবে।
খ. সাপেক্ষ যোজক অথবা সর্বনাম (যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা, যদি-তবে, যদিও-তবুও) থাকবে। উদাহরণ:
আশ্রিত বাক্য | প্রধান খণ্ডবাক্য |
| যে পরিশ্রম করে, | সেই সুখ লাভ করে। |
| সে যে অপরাধ করেছে, | তা মুখ দেখেই বুঝেছি। |
| যতই পরিশ্রম করবে, | ততই ফল লাভ করবে। |
| যখন আমার পড়াশোনা শেষ হবে, | তখন আমি খেলতে যাব। |
| যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, | সে আমার ভাই। |
| যদি তুমি যাও, | তবে তার দেখা পাবে। |
| যখন বৃষ্টি নামল, | তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। |
আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
ক. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত হয়। যথা: আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।
খ. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি। ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা। যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।
গ. ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে। তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি। যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
যৌগিক বাক্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
দ্রষ্টব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বা স্বাধীন বাক্যগুলো এবং, ও, আর, বা, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, সেজন্য, ফলে, তথাপি প্রভৃতি যোজক দ্বারা সংযুক্ত থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। যেমন: তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ। সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি। আমি পড়াশোনা শেষ করব; তারপর খেলতে যাব। জননেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু কোনো পথ দেখাতে পারলেন না। বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ। উদয়াস্ত্র পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হবো না। রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত। হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। সে ঘড় ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল। অন্ধকার হয়ে এসেছে বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল। তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি - এতে দোষের কিছু নেই।
যে সব বাক্যের মাধ্যমে সাধারণ ভাবে কোনো বিবৃতি বা বর্ণনা দেওয়া হয়, তাকেই নির্দেশক বাক্য বলে।
প্রশ্নবোধক বাক্য হলো এমন বাক্য যা কোনো কিছু জানতে বা প্রশ্ন করতে ব্যবহৃত হয় এবং এর শেষে অবশ্যই একটি প্রশ্নচিহ্ন (?) বসে ।
যেসব বাক্যের মাধ্যমে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, নিষেধ, অনুমতি, বা আমন্ত্রণ প্রকাশ করা হয়, সেগুলোকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে ।
বিস্ময়সূচক বাক্য হলো এমন বাক্য, যা মনের আকস্মিক আবেগ, বিস্ময়, আনন্দ, দুঃখ বা রাগ তীব্রভাবে প্রকাশ করে । এ ধরনের বাক্যের শেষে সাধারণত একটি বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!) ব্যবহৃত হয় । এগুলো প্রায়শই 'কী' বা 'কত' দিয়ে শুরু হয় ।
যে বাক্যে বক্তার মনের কোনো ইচ্ছা, বাসনা, কামনা, প্রার্থনা বা আশীর্বাদ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছাসূচক বা ইচ্ছাবোধক বাক্য বলে । একে বাসনা-কামসূচক বাক্যও বলা হয়ে থাকে প্রথম আলো । সাধারণত ‘দীর্ঘজীবী হোন’, ‘ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন’—এ ধরণের বাক্য এর অন্তর্ভুক্ত।
Read more